শিক্ষার উদ্দেশ্য- Aim of Education
একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জিং ক্যারিয়ার গঠনে প্রয়োজন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ভীত মজবুত করে গড়ে তোলা
ড.
মুহাম্মদ
ওমর ফারুক
অধ্যাপক, ইসলামের ইতিহাস
ও সংস্কৃতি বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ভূমিকা:
মানব জীবনে শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। শিক্ষার উপর ভিত্তি করেই রচিত হয় গোটা জাতিসত্বার কাঠামো। কোন জাতির সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং আর্থ সামাজিক উন্নতি ও সমৃদ্ধির নিয়ামক হল শিক্ষা। জাতীয় আশা আকাঙ্খা পূরণ, জাতীয় আদর্শের ভিত্তিতে চরিত্র গঠন ও জীবনের সকল ক্ষেত্র ও বিভাগে নেতৃত্বদানের উপযোগী ব্যক্তিত্ব তৈরী উপযুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমেই সম্ভব। জাতীয় ঐক্য ও সংহতির প্রধান উপকরণ হল শিক্ষা। শিক্ষাদানের প্রধান উদ্দেশ্যই হল শিক্ষার্থীদের পরিপূর্ণ জীবন বিকাশে সহায়তা প্রদান। আর এ লক্ষ্য অর্জনের পূর্ব শর্তই হল সঠিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনা নীতি প্রণয়ন ও শিক্ষক প্রশিক্ষন।ভারতীয় উপমহাদেশে অতি প্রাচীনকাল থেকে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রচলন ছিল। প্রাচীনকালে আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা হিন্দু, মুসলমান ও বৌদ্ধ ধর্মের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠে। শিক্ষা ছিল মুসলমানদের মসজিদ ও মাদ্রাসা আর হিন্দুদের টোল কেন্দ্রিক। সুলতানী ও মুঘল শাসনামলে সুলতান ও বাদশাহগণ শিক্ষা বিস্তারের জন্য অকাতরে নানান লাখেরাজ ও ওয়াক্ফ সম্পত্তি দান করতেন।
বিশেষত
মুসলিমদের পরিচালিত শিক্ষা
আমাদের দেশের মানুষের ধর্ম
রীতি-নীতি,
কৃষ্টি
ও সংস্কৃতি,
ভাষা,
সমাজ
ব্যবস্থা,
এ
দেশের আবহাওয়া ও মানুষের
চাহিদা অনুযায়ী গড়ে উঠত। এ
দেশের লোক দ্বারাই এ শিক্ষা
পরিচালিত হত। বৃটিশরা এ দেশীয়
শিক্ষাকে অকেজো প্রাণশক্তিহীন
ও অচল বলে আখ্যায়িত করে এ শিক্ষা
ব্যবস্থার প্রতি বৈরী মনোভাব
পোষন করতো। তারা এ দেশীয় শিক্ষা
ব্যবস্থা ধ্বংশ করে দিয়ে
আধুনিক শিক্ষার নামে ইংরেজী
শিক্ষা এ দেশবাসীর উপর চাপিয়ে
দিতে সচেষ্ট ছিলেন। F.
E. Keay তার
A
History of Education in India and Pakistan গ্রন্থে
বলেনঃ
Many British educational authorities believed that the Indian indigenous system of education had hardly any value and that it was better dead than alive and the British officers ofeducation department in India were justified in allowing it to die and in replacing it by the modern system of schools, colleges, and Universities
ইংরেজদের ভূমি অধিগ্রহণ, চীরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও লাখেরাজ সম্পত্তি বাতিলের ফলে প্রাচীন কালের অবৈতনিক দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থার বিলুপ্তি ঘটে। চালু হয় ইংরেজ শাসন পরিচালনার সহায়ক শিক্ষা ব্যবস্থা। তদানিন্তন ইংরেজ সরকারের শিক্ষা কমিশনের সভাপতি লর্ড মেকলে (Macaulay) ১৮৩৫ সালে ২ ফেব্রুয়ারী তার বিখ্যাত মন্তব্য প্রতিবেদন গভর্নর জেনারেলের নিকট উল্লেখ করেন, তাতে তিনি এ বিষয়টি স্পষ্ট করেন। ভারতের শিক্ষার উদ্দেশ্যে সম্পর্কে মেকলে বলেন:
In one point I fully agree with the gentlemen to whose general views I am opposed. I feel with them, that it is impossible for us, with our limited means, to attempt to educate the body of the people. We must at present do our best to form a class who may be interpreters between us and the millions whom we govern; a class of persons, Indian in blood andcolour , but English in taste, in opinions, in morals, and in intellect. To that class we may leave it to refine the vernacular dialects of the country, to enrich those dialects with terms of science borrowed from the Western nomenclature, and to render them by degrees fit vehicles for conveying knowledge to the great mass of the population.
(Text to be found in Sharp, H.
সুতরাং ইংরেজ প্রবর্তিত বর্তমান প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে দালালের পরিবর্তে দেশ প্রেমিক, স্বাধীনচেতা ও কর্মঠ বাংলাদেশী তৈরীর ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে হলে আমদেরকে প্রথমেই মন ও মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। নতুন কর্মনীতি ও কর্মপন্থা তৈরী করতে হবে। চাহিদার আলোকে যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম চালু করতে হবে। নিম্নে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থাপনার কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনার প্রয়াস পাব।
সামগ্রিক মূল্যবোধ
শিক্ষা গ্রহণ ও শিক্ষা দান:
মানব
জাতির জন্য প্রেরিত সর্বশেষ
আসমানী কিতাবের প্রথম অবতীর্ণ
শব্দ হচ্ছে ইকস্না বা পড়। এ
নির্দেশ দ্বারা শিক্ষা গ্রহণের
মাধ্যমে সকল অজ্ঞতা দূর করে
প্রকৃতির সকল রহস্যের উদঘাটন,
নিজের
জীবন উন্নত ও অন্যকে শিক্ষাদানের
উপরও গুরুত্ব দেয়া হয়। মহানবী
হযরত মোহাম্মদ (সা:)
কে
'পড়'
বা
শিক্ষা গ্রহণ কর আদেশের মধ্যেই
নিহিত আছে সকল মানুষের প্রতি
শিক্ষা গ্রহণ,
শিক্ষা
প্রদান বা বিসত্মার ও শিক্ষার
জন্য সকল কর্মকাণ্ড গ্রহণ
করার নির্দেশ। দোলনা থেকে
কবর পর্যনত্ম জ্ঞানার্জনের
বিষয়ে ইসলামের চীরন্তন নির্দেশনা
অতুলনীয়। কবির ভাষায় বলতে
হয়:
বিশ্ব জোড়া পাঠশালা মোর সবার আমি ছাত্র
নানান
ভাবে নতুন জিনিস শিখছি দিবারাত্র"
শিক্ষক:
শিক্ষার
জন্য প্রয়োজন শিক্ষকের। আর
সঠিক শিক্ষাদানের প্রয়োজন
জ্ঞান বৃদ্ধি। কোরানে বলা
হয়েছে-
'হে
প্রভূ আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে
দাও'।
শিক্ষা গ্রহণ ব্যতিরেকে জ্ঞান
বৃদ্ধি পেতে পারেনা। মানবাত্মার
সঠিক বিকাশের প্রধান উপায়
হলো শিক্ষা লাভে জ্ঞান বৃদ্ধির
মাধ্যমে নিজের সত্বা উপলব্দি
করে জীবন সমস্যা সমাধানে
দক্ষতা অর্জন। তাই আল্লাহ
তায়ালা শিক্ষক হিসেবে পাঠিয়েছেন
নবী ও রাসুলদেরকে। শেষ নবী
হযরত মোহাম্মদ স,
নিজের
পরিচয় দিয়ে বলেন"
বুয়েছতু
মোয়াল্লেমান"
- আমাকে
শিক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে হযরত আদম আ.
এর
শিক্ষা পদ্ধতিও উল্লেখযোগ্য।
আদমকে আল্লাহ তায়ালা ‘Direct
observation method’ বা
প্রত্যক্ষ প্রকৃতি সম্পর্কে
জ্ঞান লাভ করেন এবং ফেরেশতাদের
সাথে প্রতিযোগীতা করে প্রথম
হয়ে মানবের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ
করেন।
ভাষা
জ্ঞান:
আনত্মর্জাতিক
ভাষাসমুহের জ্ঞান বিশ্ব
চ্যালেজ্ঞ মোকাবেলার ক্ষেত্রে
সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।
এ ক্ষেত্রে ইংরেজী ভাষা প্রথম
স্থান দখল করে আছে। প্রাথমিক
থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে
ইংরেজী শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে
আমরা পাশ্ববতর্ী দেশ ভারত
থেকে অনেক পিছিয়ে আছি। এ
ক্ষেত্রে সরকারের মহা পরিকল্পনার
প্রয়োজন। এ বিষয়ে প্রাথমিক
কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের
জন্য আমি বাংলাদেশ সরকারের
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের
দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। পাশাপাশি
সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় গ্রন্থাদীর
ভাষার দখলও অনস্বীকার্য।
শিক্ষাপোকরণ:
শিক্ষাপোকরণ
অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
মানুষের প্রথম শিক্ষা ছিল
উপকরণের মাধ্যমে। বক্তৃতার
মাধ্যমে উপকরনহীন শিক্ষা নয়।
উপকরণের মাধ্যমে সহজ ও আকর্ষণীয়
পদ্ধতিতে শিক্ষাদান। পর্যবেক্ষন
সহকারে প্রদর্শনীমূলক শিক্ষা
ও শিক্ষাপোকরণ ব্যবহার পদ্ধতিতেই
শিক্ষাদান আদর্শ মানের হতে
পারে। হান স্রষ্টাই শিক্ষা
বিজ্ঞানের আদি জনক এবং শিক্ষক
ও শিক্ষাদান ক্রিয়াকর্মের
তথা শিক্ষা বিজ্ঞানের আদি
প্রতিষ্ঠাতা।
প্রযুক্তিগত জ্ঞান:
একবিংশ
শতাব্দীতে প্রযুক্তির বিকাশের
সাথে সাথে শিক্ষা ক্ষেত্রেও
এর ব্যবহার লক্ষনীয়। এ ক্ষেত্রে
যথাসম্ভব স্থানে শিক্ষার্থীকে
তথ্য প্রযুক্তির সাথে পরিচিতি
গড়ে তুলতে হবে। কম্পিউটার,
ইন্টারনেট,
ই-
লানিং,
দূরশিক্ষন
প্রভৃতির যথোপযুক্ত ব্যবহার
সুনিশ্চিত করতে হবে।
প্রশিক্ষন:
আদর্শ
ক্যারিয়রের জন্য হাতে -
কলমে
শিক্ষার কোন বিকল্প নেই।
শিক্ষক কর্তৃক শ্রেণীকক্ষে
বোর্ড এর ব্যবহার,
গ্রুপ
ভিত্তিক আলোচনা ও বিশেষ
কার্যাবলী প্ররিধানযোগ্য।
ক্ষেত্র বিশেষ মানচিত্র,
কলাম
গ্রাফ,
টেবিল,
ডাটা
ও স্মারণীর ব্যবহার করা যেতে
পারে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীকে
প্রতিনিয়ত উদুদ্ধকরণ,
উত্সাহিত
করণ ,
আশাবাদী
মানসিকতা গঠন,
উন্নত
চিন্তা -
চেতনার
আলোচনা উন্নত ক্যারিয়ার তৈরীতে
সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।
পাঠ্যক্রম:
হযরত
আদম থেকে শেষ নবী প্রত্যেকেই
পাঠ্যক্রম ও শিক্ষাদানের
জন্য সহীফা বা কিতাব অন্যকথায়
টেক্সবই পেয়েছেন। এ সকল কিতাব
ছিল তাদেও শিক্ষাদানের মূল
ভিত্তি ও শিক্ষাক্রম। Curriculum
and syllabus যে
বই দেয়া আছে তা পড়ার অভ্যাস
গড়ে তুলতে হবে। নোট বই নির্ভরতা
সার্বিক জ্ঞানার্জনের পথে
বিশাল বাধা। আধূনিক চ্যলেজ্ঞ
মোকাবিলায় যোগ্য নাগরিক হিসেবে
গড়ে ওঠার জন্য একজন শিক্ষার্থীকে
অবশ্যই টেক্সট বইয়ের প্রতি
ভালোবাসা বৃদ্ধি করতে হবে।
যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
ইতোমধ্যে খ্যাতি অর্জন করেছে,
তাদের
সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি হচ্ছে
পাঠ্য বইয়ের প্রতি অধিক মনোযোগ
দেয়ার মানসিকতা। এ ক্ষেত্রে
ছাত্র শিক্ষক উভয়ের বিশেষ
ভূমিকা প্রনিধানযোগ্য।
মুখস্থ বিদ্যা নয়; বুঝে বুঝে পড়া:
পাঠ্যবই
মুখস্থ করাকেই অনেকে পাঠ্যক্রম
কার্যাদির চূড়ান্ত সফলতা মনে
করেন। এ ক্ষেত্রে না বুঝে কোন
বিষয় অধ্যায়ন করলে তা হয়তো
সাময়িক প্রয়োজন তথা ভালো
ফলাফলের নিশ্চয়তা দিতে পারে,
কিন্তু
শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের জন্য
তা কোন কল্যাণ বয়ে আনতে পারে
না। যে কোন বিষয় বোধ শক্তির
মধ্যে নিয়ে আসাই প্রকৃত শিক্ষা।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম
যথার্থই বলেছেন:
"পুঁথিগত বিদ্যা আর পরহস্তে ধন,
বিদ্যা,
নহে
ধন,
হলে
প্রয়োজন"
ধর্মীয় জ্ঞান:
ছাত্র
-
ছাত্রীকে
স্ব স্ব ধর্মের বিষয়ে জ্ঞানার্জন
করতে হবে। ব্যক্তি,
পরিবার,
সমাজ
ও রাষ্ট্রের প্রতি প্রকৃত
ধার্মিক ব্যক্তিই সঠিক ভালোবাসা
প্রদর্শন করতে পারে। "মায়ের
পদতলে সন্তানের জান্নাত"
একমাত্র
ইসলাম ধর্মই শিক্ষার্থীকে
এরকম গভীর মাতৃপ্রেমে সম্মাণিত
করতে পারে। দেশপ্রেম ব্যতিত
আদর্শ চ্যলেঞ্জিং ক্যরিয়ার
গঠনের মানসিকতা বাস্তবসম্মত
নয়।
নৈতিকতা:
নীতি নৈতিকতা বিবর্জিত শিক্ষা যতই উন্নত হোক, চ্যালেজ্ঞিং ক্যারিয়ার তৈরীর ক্ষেত্রে তা বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরী করতে পারে। মাদক দ্রব্যের মরণ ছোবল, উম্মুক্ত আকাশ সংস্কৃতি ও নগ্নতা - বেহায়াপনা অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর জীবন ধ্বংশ করে তার পিতা মাতার স্বপ্নকে ধুলায় মিশিয়ে দিচ্ছে। দিনে দিনে এ সংখ্যা বেড়েই চলছে। ধুমপান মাদকতা ও উম্মাদনার প্রাথমিক সিঁড়ি হিসেবে শুরুতেই এটির মুলোত্পাটন করতে হবে। ছিনতাই, ঈভ টিজিংসহ নানাবিধ সামাজিক অপরাধ এর সাথে জড়িয়ে আছে। ধুমপায়ী অভিভাবক ও শিক্ষকমণ্ডলীকে ভবিষ্যত প্রজন্মকে বাঁচানোর স্বার্থে এখনই সতর্ক হতে হবে। ছাত্রদেরকে ক্যারিয়ারিস্ট না হয়ে হিউম্যানিস্ট হওয়ার চেষ্টা এখন সময়ের অনিবার্য দাবী।শৃংখলা ও নিয়মানুবর্তিতা:
শৃংখলা
ও নিয়মানুবর্তিতার বিষয় বলতে
গেলে বাল্যকালের সে বিখ্যাত
ছড়া মনে পড়ে যায়
‘Early
to bed and early to rise
Make
a man healthy, wealthy and wise;’
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় হচ্ছে শৃং্খলা ও নিয়মানুবর্তিতা শিক্ষার উপযুক্ত সময়। ছাত্রদেরকে এ ব্যাপারে সচতন করে তুলতে হবে। এ বিষয়ে শিক্ষকদের ভূমিকা অগ্রগণ্য। শিক্ষকের নির্দিষ্ট সময়ে ক্লাশে আগমন ও প্রস্থানের বিষয়টি সুনিশ্চিত করতে হবে। ছাত্রদের শৃঙ্খলার বিষয়টি তো বলার অপেক্ষা রাখেনা। রাজনীতিমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়ে তোলা এ ক্ষেত্রে বিশেষ সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।
সময়জ্ঞান:
সময়ের কাজ সময়মত সম্পাদনের কোন বিকল্প নেই। আমরা জানি যে, ‘Time and tide wait for none’ অথবা"সময় অমূল্য ধন,
চলে
গেলে ফিরে পাবে কখন?"
সময়ে
প্রতিটি মূহুর্ত এক একটি
স্বর্ণ দানার মত। এর সঠিক
ব্যবহার আমাদের সফলতাকে শানিত
করে তুলবে। সময়ের সঠিক মূল্যায়নের
মাধ্যমেই একজন শিক্ষার্থী
কাঙ্খিত সফলতা লাভ করতে পারে।
কো - কারিকুলাম:
পাঠ্য
পুস্তকের পাশাপাশি শিক্ষা
সহযোগী অন্যান্য বিষয়ে
শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বৃদ্ধির
পরিবেশ গড়ে তোলা। প্রতিষ্ঠান
ভিত্তিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক
অনুষ্ঠানের আয়োজন করা। এ
ক্ষেত্রে মেধা বিকাশের উপযোগী
ইভেন্টগুলোর প্রতি নজর দেয়া
যেতে পারে । যেমন:
আবৃত্তি,
উপস্থিত
বক্তৃতা,
বিতর্ক,
সংসদীয়
বিতর্ক ও সাধারণ জ্ঞান
প্রতিযোগীতার আয়োজন করা।
এছাড়া ক্রীড়া প্রতিযোগীতার
ব্যবস্থাও রাখা যেতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে আধুনিক সময়ে
উপস্থাপনা শিল্প ও ক্রীড়া
ব্যক্তিত্বের ঈর্ষণীয় ক্যরিয়ারের
কথা বলা যেতে পারে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার উদ্দেশ্য
প্রাথমিক
ও উচ্চ শিক্ষার মধ্যবর্তী
শিক্ষাকে মাধ্যমিক শিক্ষা
বলা হয়। এটি শিক্ষা ব্যবস্থার
মেরুদন্ড স্বরূপ। সাধারণত
১১ থেকে ১৭/১৮
বয়ঃক্রমের শিক্ষার্থীরা এ
সত্মরে শিক্ষা লাভ করে। এ সময়
কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক
বর্ধন ও বিকাশ ঘটে। কাজেই এ
সময়ের শিক্ষাকে ভীবষ্যত জীবনের
ভিত হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ
সত্মরে শিক্ষার লক্ষ্য ও
উদ্দেশ্য হবে।
১. প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা সমপ্রসারন ও সুসংহত করা:
মাধ্যমিক
শিক্ষার প্রধান লক্ষ্য হবে
প্রাথমিক সত্মরের শিক্ষার
সমপ্রসারন ও সুসংহত করণ এবং
একইভাবে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার
প্রধান লক্ষ্য হবে মাধ্যমিক
সত্মরের শিক্ষার সমপ্রসারন
ও সুসংহত করণ। উদাহরণ হিসেবে
বলা যেতে পারে মফস্বল এলাকার
স্কুলের একজন ছাত্র বা ছাত্রীর
নূন্যতম সাধারণ বিষয়গুলোর
প্রতি তার দৃষ্টি সমপ্রসারতি
করা। যেমন নিজের নাম-
ঠিকানা
ও জন্ম তারিখ সঠিকভাবে লিখতে
শেখা। ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণীর
পাঠ্যসূচীতে দরখাসত্ম/রচনা/
Application প্রভৃতি
অন্তভূক্ত থাকার পরও একাদশ
ও দ্বাদশ শ্রেণীর এমনকি
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের কিছু
ছাত্রকেও অনেক সময় এসব ছোট
খাট বিষয়ে মারাত্নক ভুল করতে
দেখা যায়। এতে করে ছাত্রটির
মধ্যে একধরনের না পারার
আত্নগ্লানি কাজ করে,
যা
তার ক্যারিয়ারকে বাধাগ্রস্থ
করে তোলে।
২. বিভিন্ন পঠিতব্য বিষয়ে মৌলিক জ্ঞান দান, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে কর্তব্য নিষ্ঠা ও কর্মকুশলতা অর্জন।
পঠিতব্য বিষয়ের বাসত্মবিক ও মৌলিক জ্ঞান এবং পাঠ্যক্রমের মধ্যকার আলোচনায় নৈতিক বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা। মূল্যবোধের সৃষ্টি না হলে কল্যান ও অগ্রগতি বাধাগ্রস্থ হয়। যেমন কৃষি, ব্যবসা প্রশাসন,ইতিহাস, অর্থনীতি ও রাজনীতি বিষয়ে আলোচনার সময় ছাত্রের কর্তব্য নিষ্ঠা এবং গ্রহণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই দল মতের উর্ধে উঠে ন্যায় নিষ্ঠার বিষয়ে শিক্ষার্থীকে সচেতন করা।৩. সুনাগরিকের কর্তব্য সচেতনতা বৃদ্ধি, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা এবং মেধা ও সম্ভাবনার স্ফূরণ দেশ বোধ, দেশপ্রেম ও সুনাগরিকের কর্তব্য সচেতনতা বৃদ্ধির আলোচনা উপস্থাপন করা। অন্যেও প্রতি সহনশীলতা, সহমর্মিতা, সহযোগীতা, দয়া , মায়াসহ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করা। সম্ভাবনাময় মেধাবীদের মেধার মূল্যায়নে স্কলারশিপ প্রদানের ব্যবস্থাগ্রহণ করা।
৪. মেধা ও প্রবণতা অনুযায়ী উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ উপযোগী করা এবং যুক্তি ও চিনত্মায় বিশ্বাসী করে পরমসহিষ্ণুুুতা বৃদ্ধি।শিক্ষার্থীদের সম্ভাব্য মেধার বিবেচনায় উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে তার মনকে চাঙ্গা করে গড়ে তোলা। সাধারণত শিক্ষকরা শিক্ষকতার পেশার মানসিকতাই তাঁর ছাত্র ছাত্রীদের দিয়ে থাকেন।অধিকাংশ ক্ষেত্রে My aim in life রচনায় শিক্ষার্থীরা গদবাধা কিছু বিষয়ে লিখিত বক্তব্যের প্রতিধ্বণি করে থাকে। এ ক্ষেত্রে তার স্বকীয় চিনত্মা ও মননের বহি:প্রকাশ খুব কমই ঘটে থাকে। মেধা ও প্রবণতা অনুযায়ী মাধ্যমিক পর্যায়ের একজন শিক্ষার্থীকে উচ্চ শিক্ষার জন্য ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবি, সামরিক কর্মকর্তা, পাইলট, বিজ্ঞানী কিংবা একজন ছাত্রকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, মেরিন ও মেডিকেল কলেজে ভর্তির স্বপ্ন দেখাতে পারলে তার চ্যালেজ্ঞিং ক্যারিয়ারের ক্ষেত্র তৈরীর পথ অনেক সুগম হবে। শিক্ষকরা ছাত্রদেরকে স্বপ্ন দেখাতে পারলে ছাত্ররা সে স্বপ্নকে জয় করতে পারবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পারমানবিক বোমার আঘাতে ক্ষত বিক্ষত জাপানের উন্নতি অগ্রগতি স্বপ্ন ও সাধনার ফসল নয় কি? এভাবেই একটি জাতি মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে।
৫. সমাজ ও বিশ্বে উন্নত জীবন যাপনে সমর্থ এবং উত্তম পেশার উপযোগী করে গড়ে তোলা। শুধু নিজ দেশ নয়; দেশ থেকে দেশানত্মরে উচ্চ শিক্ষা আর চ্যালেজ্ঞিং ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশীরা দিন দিন যোগ্যতার প্রমান রাখছে। বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিস্কার ও মহাকাশ জয় সর্বপরি উন্নত জীবন যাপনে সমর্থ এবং উত্তম পেশার উপযোগী করে গড়ে তোলা।
৬. শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থের উন্নতি বিধানে সক্ষম করা।
চিন্তা - চেতনাকে শানিত করে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির সাথে সাথে অর্থনৈতিক উন্নতির মাধ্যমে শারীরিক স্বাস্থের উন্নতি বিধানে সক্ষম করা।
উপসংহারঃ
বলতেই হয়,
মানুষ
আশরাফুল মাখলুকাত বা আল্লাহ
সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সৃষ্ট
সর্বশ্রেষ্ঠ জীব। মানুষ
শুধুমাত্র দেহ সর্বস্ব জীব
নয় বরং দেহ ও আত্মার সমন্বিত
শ্রেষ্ঠ জীব। অথচ বাংলাদেশ
সরকার ২০১০ সালে যে খসড়া
শিক্ষাণীতি প্রণয়ন করেছে
তাতে আত্মগঠণ ও আধ্যাত্মিক
উন্নয়ন সংক্রান্ত কোন বাস্তব কর্মকৌশল অন্তভূক্ত নেই।
আমরা আশা করব যে,
উল্লেখ্য
শিক্ষানীতির খসড়া পরিবর্তন
করে সকলের মতামত নিয়ে ধর্মীয়,
নৈতিকতা
ও আদর্শ নাগরিক তৈরীর লক্ষ্যে
পরিবর্তিত শিক্ষাণীতি প্রণীত
হবে।
সরকারের আন্তরিকতার কোন কমতি নেই। আদর্শ গঠনমূলক ও দেশের প্রকৃত নাগরিক তৈরীর লক্ষ্যে সরকার নানাবিধ উন্নয়ন কর্মের পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে প্রতিনিয়ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এটিকে আরো ত্রুটিমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত আছে। আশা করি অদূর ভবিষ্যতে আমার একটি পরিপূর্ণ সামগ্রিক একমূখী বিজ্ঞানভিত্তিক মূল্যবোধ ও কারিগরী জ্ঞানসমৃদ্ধ শিক্ষানীতির দিকে অগ্রসর হতে পারবো। উল্লেখ্য যে, প্রবন্ধটি কলেজের ২০১০ সালের
( লেখক, ড. মুহাম্মদ ওমর ফারুক, সহকারী অধ্যাপক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি, লক্ষীপুর কমার্স কলেজ।omortdu@gmail.com, উল্লেখ্য যে, প্রবন্ধটি ২০১০ সালে কলেজের উদ্যোগে আয়োজিত শিক্ষা সেমিনার ও শিক্ষক মেলা উপলক্ষ্যে লেখক কর্তৃক পঠিত ওপ্যশংসিত হয়।)
tnx
ReplyDelete